ব্যক্তিগত ফোনালাপ প্রকাশে মোবাইল বিমুখ হতে পারে গ্রাহকরা: বামুগ্রাএ
গ্রাহকের ব্যক্তিগত ফোনালাপ ও তথ্য যত্রতত্রভাবে টেলিভিশন, গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে টেলিকম শিল্পের প্রতি মানুষ বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাও হারাবে। ফলে এই সেবা গ্রহনে বিমুখ হতে পারে গ্রাহকরা।
২৯ এপ্রিল, গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বামুগ্রাএ)।
বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আইনে সুস্পষ্ট বলা রয়েছে গ্রাহকের ফোন আলাপ এবং তথ্য সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের এই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় সময় দেখা যায় ব্যক্তিস্বার্থ এমনকি রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সুনাম ও মান মর্যাদা ক্ষুন্ন করতেই ব্যক্তিগত টেলিফোন আলাপ প্রায়শই প্রচার এবং প্রকাশিত হচ্ছে। যা অত্যন্ত বিপদজনক। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে এই শিল্পের প্রতি মানুষের বিন্দুমাত্র নিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা হারাবে। ফলে এই এই সেবার বিমুখ হতে পারে গ্রাহকরা। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ফোন কল প্রকাশকারী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সাথে সাথে গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার।'
বিবৃতিতে সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, গ্রাহকের ব্যক্তিগত ফোনালাপ তথ্য প্রকাশ করায় গ্রাহকরা সংবিধান ও আইনের নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে মহিউদ্দিন আহমেদ,'টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ৭১ ধারায় টেলিফোনে আড়িপাতার দণ্ডে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি অপর দুজন ব্যক্তির টেলিফোন আলাপে ইচ্ছাকৃতভাবে আড়িপাতে, তাহা হইলে প্রথমত ব্যক্তির, এই কাজ হইবে একটি অপরাধ এবং তার জন্য তিনি অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৯৭ (ক, এর অধীন সরকার হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থার কোনো কর্মকর্তার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে না।'
বিবৃতিতে সংঠগনটি সংবিধানের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে জানায়, সংবিধানের ৪৩(খ) ধারায় বলা আছে, চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ে গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার থাকবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এর (২৬) ধারায় অনুমতি ছাড়া কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ কে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অনুযায়ী (অনু:১২) নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে আন্তর্জাতিক সনদ (অনু:১৭) জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী (অনু:১৪) এবং শিশু অধিকার সনদ (অনু:১৬) এ প্রাইভেসিকে অধিকার হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।







